শবে কদরের নামাজ কখন পড়তে হয়।শবে কদরের নামাজ কত রাকাত পড়তে হয়

শবে কদরের নামাজ কখন পড়তে হয়?

শবে কদরের নামাজ সাধারণত ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় পড়া যায়। তবে বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময় (রাতের শেষ তৃতীয়াংশ) বেশি ফজিলতপূর্ণ বলে হাদিসে উল্লেখ আছে।

শবে কদরের নামাজের সময়সূচি:

  1. ইশার পর থেকে সারা রাত – ইশার নামাজের পর থেকেই শবে কদরের বিশেষ ইবাদত শুরু করা যায়।
  2. শেষ রাত (তাহাজ্জুদের সময়) বেশি উত্তম – রাতের শেষ ভাগে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

শবে কদরের নামাজের নিয়ম

🔹 নফল নামাজ:

  • দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়তে পারেন (সাধারণত ২, ৪, ৬, ৮ বা ১২ রাকাত পড়া হয়)।
  • সাধারণ তাহাজ্জুদের নামাজের মতোই পড়তে হয়।

🔹 বিশেষ দোয়া ও জিকির:

  • হাদিসে শবে কদরের জন্য বিশেষ দোয়া শেখানো হয়েছে:

اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني

উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাআফু আন্নি"

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করে দাও।

🔹 কুরআন তিলাওয়াত:

  • বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম।

🔹 তাসবিহ ও জিকির:

  • সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস বেশি করে পড়া।
  • "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ", "আল্লাহু আকবার", "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" ইত্যাদি জিকির করা।

🔹 তওবা ও ইস্তেগফার:

  • গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

🔹 দরুদ শরিফ পাঠ:

  • রাসূল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা।

সংক্ষেপে করণীয়:

✅ ইশার নামাজ পড়ুন।

✅ নফল নামাজ পড়ুন (২-১২ রাকাত বা যত পারেন)।

✅ বেশি বেশি দোয়া করুন, বিশেষত উপরের দোয়াটি।

✅ কুরআন তিলাওয়াত করুন।

✅ জিকির ও ইস্তেগফার করুন।

শবে কদরের রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায় (সূরা কদর ৯৭:৩)। তাই এই রাতের সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে কদরের বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Post a Comment