শবে কদর হলো ইসলাম ধর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাত। কুরআন ও হাদিসের আলোকে শবে কদরের কিছু আলামত নিম্নরূপ:
শবে কদরের আলামত
১.আকাশ পরিস্কার ও শান্ত থাকবে
- শবে কদরের রাতে আকাশ থাকবে পরিষ্কার, মেঘমুক্ত ও শান্ত।
২.মৃদু ও মনোরম আবহাওয়া
- খুব গরম বা খুব ঠান্ডা থাকবে না; আবহাওয়া হবে স্নিগ্ধ ও আরামদায়ক।
৩.সূর্য কিরণহীন উদিত হবে
- পরদিন সকালে সূর্য হবে কোমল, রশ্মিহীন বা হালকা লালচে আভাযুক্ত।
৪.অস্বাভাবিক আলো বা নূরের অনুভূতি
- অনেক সময় এই রাতে অদ্ভুত এক প্রশান্তি ও আলো অনুভূত হয়, যা সাধারণ রাতের তুলনায় ব্যতিক্রম।
৫.বাতাস হবে শান্ত ও নির্মল
- ঝড়-তুফান বা অতিরিক্ত বাতাস থাকবে না, বরং বাতাস হবে শান্ত ও মৃদু।
৬.সেই রাতে শয়তান দুর্বল হয়ে পড়ে
- শয়তানের কুমন্ত্রণা কমে যায় এবং ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি মন বসে।
৭.মানুষের মনে অদ্ভুত প্রশান্তি আসে
- যারা ইবাদতে রত থাকেন, তারা মনে করেন যেন এটি অন্য যেকোনো রাতের চেয়ে আলাদা ও বিশেষ।
শবে কদরের গুরুত্ব
- এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের (৮৩ বছর ৪ মাস) চেয়ে উত্তম (সূরা কদর: ৩)।
- এই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে।
- ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং শান্তি বর্ষিত হয়।
শবে কদরের সঠিক তারিখ
- নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তবে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- অনেক হাদিসে ২৭তম রাত্রিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শবে কদরে করণীয় আমল
- নফল নামাজ পড়া
- কুরআন তিলাওয়াত করা
- দোয়া ও ইস্তেগফার করা (বিশেষত: "اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني" পড়া)
- দরুদ শরিফ পড়া
- তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা
- সদকা ও দান করা
এই বরকতময় রাত যেন আমরা ইবাদতে কাটাতে পারি, আল্লাহ আমাদের সবাইকে সে তাওফিক দান করুন। আমিন।