স্বাধীনতা দিবস নিয়ে কিছু কথা
স্বাধীনতা দিবস হলো একটি জাতির জন্য সবচেয়ে গৌরবময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এটি সেই দিন, যখন একটি দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার স্বাদ লাভ করে। বাংলাদেশের জন্য ২৬শে মার্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালিরা পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বর্বর হামলা চালায়, যা "অপারেশন সার্চলাইট" নামে পরিচিত। এই গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে।
স্বাধীনতা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক। এই দিনে সারা দেশে নানা অনুষ্ঠান, কুচকাওয়াজ, স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।
তবে স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপন যথেষ্ট নয়। আমাদের উচিত দেশকে উন্নত, সুশৃঙ্খল ও সৎপথে পরিচালিত করা, যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ সার্থক হয়। স্বাধীনতা শুধু একটি অধিকার নয়, এটি রক্ষা ও মর্যাদা দেওয়ার দায়িত্বও।প্রিয় পাঠক আজকে আমরা তুলে ধরছি স্বাধীনতা দিবসের সেরা কবিতা.............
একটি পতাকা পেলে
– হেলাল হাফিজ
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস
ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন,–’পেয়েছি, পেয়েছি’।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে
ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,
বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসন্মানে সাদা দুতে-ভাতে।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমাদের সব দুঃখ জমা দেবো যৌথ-খামারে,
সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ
সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।
স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
- নির্মলেন্দু গুণ
একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’
এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,
এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না,
এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না৷
তা হলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?
তা হলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে
ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হদৃয় মাঠখানি?
জানি, সেদিনের সব স্মৃতি ,মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত
কালো হাত৷ তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ
কবির বিরুদ্ধে কবি,
মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,
বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,
উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,
মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ … ৷
হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,
শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি
একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে
লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প৷
সেই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর৷
না পার্ক না ফুলের বাগান, — এসবের কিছুই ছিল না,
শুধু একখন্ড অখন্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত
ধু ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়৷
আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল
এই ধু ধু মাঠের সবুজে৷
কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,
পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক৷
হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,
নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুণ কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে
আর তোমাদের মত শিশু পাতা-কুড়ানীরা দল বেঁধে৷
একটি কবিতা পড়া হবে, তার জন্যে কী ব্যাকুল
প্রতীক্ষা মানুষের: “কখন আসবে কবি?’ “কখন আসবে কবি?’
শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷
স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর
- নির্মলেন্দু গুণ
জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উল্ঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছো পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবী হও।
তোমার পরমায়ু বৃদ্ধি পাক আমার অস্তিত্বে, স্বপ্নে,
প্রাত্যহিক বাহুর পেশীতে, জীবনের রাজপথে,
মিছিলে মিছিলে; তুমি বেঁচে থাকো, তুমি দীর্ঘজীবী হও।
তোমার হা-করা মুখে প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে
সূর্যাস্ত অবধি হরতাল ছিল একদিন,
ছিল ধর্মঘট, ছিলো কারখানার ধুলো।
তুমি বেঁচেছিলে মানুষের কলকোলাহলে,
জননীর নাভিমূলে ক্ষতচিহ্ন রেখে
যে তুমি উল্ঙ্গ শিশু রাজপথে বেরিয়ে এসেছো,
সে-ই তুমি আর কতদিন ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ বলে
ঘুরবে উলঙ্গ হয়ে পথে পথে সম্রাটের মতো?
জননীর নাভিমূল থেকে ক্ষতচিহ্ন মুছে দিয়ে
উদ্ধত হাতের মুঠোয় নেচে ওঠা, বেঁচে থাকা
হে আমার দূঃখ, স্বাধীনতা, তুমিও পোশাক পরো;
ক্ষান্ত করো উলঙ্গ ভ্রমণ, নয়তো আমারো শরীরি থেকে
ছিঁড়ে ফেলো স্বাধীনতা নামের পতাকা।
বলো উলঙ্গতা স্বাধীনতা নয়,
বলো দূঃখ কোনো স্বাধীনতা নয়,
বলো ক্ষুধা কোন স্বাধীনতা নয়,
বলো ঘৃণা কোন স্বাধীনতা নয়।
জননীর নাভিমূল ছিন্ন-করা রক্তজ কিশোর তুমি
স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবী হও। তুমি বেঁচে থাকো
আমার অস্তিত্বে, স্বপ্নে, প্রেমে, বল পেন্সিলের
যথেচ্ছ অক্ষরে,
শব্দে,
যৌবনে,
কবিতায়।
স্বাধীনতা তুমি
- শামসুর রাহমান
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
স্বাধীনতা তুমি
মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দক্ষ বাহুর গ্রন্থিল পেশী।
স্বাধীনতা তুমি
অন্ধকারের খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক।
স্বাধীনতা তুমি
বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর
শানিত কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ।
স্বাধীনতা তুমি
চা-খানায় আর মাঠে-ময়দানে ঝোড়ো সংলাপ।
স্বাধীনতা তুমি
কালবোশেখীর দিগন্তজোড়া মত্ত ঝাপটা।
স্বাধীনতা তুমি
শ্রাবণে অকূল মেঘনার বুক
স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।
স্বাধীনতা তুমি
উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন।
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতের নম্র পাতায় মেহেদীর রঙ।
স্বাধীনতা তুমি বন্ধুর হাতে তারার মতন জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার।
স্বাধীনতা তুমি
গৃহিণীর ঘন খোলা কালো চুল,
হাওয়ায় হাওয়ায় বুনো উদ্দাম।
স্বাধীনতা তুমি
খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা,
খুকীর অমন তুলতুলে গালে
রৌদ্রের খেলা।
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
- শামসুর রাহমান
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মত চিত্কার করতে করতে
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস বস্তি উজাড় হলো। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
তুমি আসবে ব’লে, ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম।
তুমি আসবে ব’লে, বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভূর বাস্তুভিটার
ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করলো একটা কুকুর।
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিলো পিতামাতার লাশের উপর।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে এক থুত্থুরে বুড়ো
উদাস দাওয়ায় ব’সে আছেন – তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের
দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে
নড়বড়ে খুঁটি ধ’রে দগ্ধ ঘরের।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে
বসে আছে পথের ধারে।
তোমার জন্যে,
সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,
কেষ্ট দাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,
মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি,
গাজী গাজী ব’লে নৌকা চালায় উদ্দান ঝড়ে
রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস
এখন পোকার দখলে
আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়ানো
সেই তেজী তরুণ যার পদভারে
একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হ’তে চলেছে –
সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
মতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।
উচ্চারণগুলি শোকের
- আবুল হাসান
লক্ষি বউটিকে
আমি আজ আর কোথাও দেখিনা,
হাটি হাটি শিশুটিকে
কোথাও দেখিনা,
কতগুলি রাজহাঁস দেখি
নরম শরীর ভরা রাজহাঁস দেখি,
কতগুলি মুখস্থ মানুষ দেখি, বউটিকে কোথাও দেখিনা
শিশুটিকে কোথাও দেখিনা !
তবে কি বউটি রাজহাঁস ?
তবে কি শিশুটি আজ
সবুজ মাঠের সূর্য, সবুজ আকাশ ?
অনেক রক্ত যুদ্ধ গেলো,
অনেক রক্ত গেলো,
শিমুল তুলোর মতো
সোনারূপো ছড়ালো বাতাস ।
ছোটো ভাইটিকে আমি
কোথাও দেখিনা,
নরোম নোলক পরা বোনটিকে
আজ আর কোথাও দেখিনা !
কেবল পতাকা দেখি,
কেল উৎসব দেখি ,
স্বাধীনতা দেখি,
তবে কি আমার ভাই আজ
ঐ স্বাধীন পাতাকা ?
তবে কি আমার বোন, তিমিরের বেদীতে উৎসব ?
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
- রুদ্র মুহান্মদ শহীদুল্লাহ
তাঁর চোখ বাঁধা হলো।
বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্ত করলো তার মুখ।
থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লালা-রক্তে একাকার হলো,
জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত ঝওে পড়লো কংক্রিটে।
মা….মাগো….চেঁচিয়ে উঠলো সে।
পাঁচশো পঞ্চান্নো মার্কা আধ খাওয়া একটা সিগারেট
প্রথমে স্পর্শ করলো তার বুক।
পোড়া মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরের বাতাসে।
জ্বলন্ত সিগারেটের স্পর্শ
আমারা কথা বলবো।
লাঠিচার্জ আমাদের ফেরাতে পারেনি
কাঁদানে গ্যাস আমাদের ফেরাতে পারেনি
র্ইাফেল আমাদের ফেরাতে পারেনি
মেশিন গান আমাদের ফেরাতে পারেনি -
আমারা এসেছি,
আমারা আমাদের গৃহহীনতার কথা বলবো।
কৃষক তোমাদের পক্ষে যাবে না
শ্রমিক তোমাদের পক্ষে যাবে না
ছাত্র তোমাদের পক্ষে যাবে না
সুন্দর তোমাদের পক্ষে যাবে না
স্বপ্ন তোমাদের পক্ষে যাবে না -
তারা সকলেই কষ্টে আছে
তারা সকলেই অনটনে আছে
তারা সকলেই বিক্ষোভের হাত তুলেছে।
তোমাদের পক্ষে যাবে কুকুর
তোমাদের পক্ষে যাবে সুবিধাভোগী
তোমাদের পক্ষে যাবে বিত্তবান নেকড়েরা।
বৃক্ষ তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে
শস্য তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে
রক্ত তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে
তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত শিশুরা।
লক্ষ মৃত্যু আমাদের ফেরাতে পারেনি
আমারা এসেছি।
আমারা আমাদের শিক্ষাহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের চিকিৎসাহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের গৃহহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের বস্ত্রহীনতার কথা বলবো
আমারা আমাদের ক্ষুধা ও মৃত্যুর কথা বলবো।
আমরা তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা থেকে এসেছি
আমরা সিপাহী আন্দোলনের দুর্গ থেকে এসেছি
আমরা তেভাগার কৃষক, নাচোলের যোদ্ধা
আমরা চটকলের শ্রমিক, আমরা সূর্যসেনের ভাই
আমরা একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে এসেছি
কাঁধে স্টেন, কোমরে কার্তুজ, হাতে উন্মত্ত গ্রেনেড -
আমরা এসেছি।
কোথায় স্বাধীনতা
কবি দবির আহমদ কবির
রাস্তায় মানুষ কে পিঠিয়ে হত্যা করা
এটার নাম কি স্বাধীনতা
মানুষের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে ভস্ন করা
এটা কোন ধরণের সভ্যতা।
স্বাধীনতার নামে জাতির পিতার ভাস্করে
ইচ্ছানুযায়ী করছো আঘাত
যাঁর নেতৃত্বে বাংলার স্বাধীনতা এসেছে
গোলামীর জিজ্ঞির মুক্ত বাঙ্গালী জাত।
স্বাধীনতার নামে রাষ্ট্রিও সম্পদ দখল নারী ধর্ষণ
মানুষের সাথে খারাপ আচরণ
বাবার বয়সী কে কান ধরে উঠবস করানো
শিক্ষকের মর্যাদায় আঘাত কি কারন।
স্বাধীনতার নামে মুক্তি যুদ্ধাকে অপমান
বাড়ী ঘরে হচ্ছে ভাঙ্গচুর হামলা
জোর পূর্বক ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে তোরা
প্রতিহিংসা চরিতার্থে করছো মামলা।
মেধা কোটার লড়াই অন্তরালে চলে গেছে
উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতার আসন দখল
স্বাধীনতার নামে মেধার পরিচয় পেয়েছে জাতি
অল্প বয়সী ধোঁকাবাজ শিক্ষিত মহল।
মুক্ত স্বাধীনতা!
কথাবিচিত্রক অসীম।
লিখিত স্বাধীনতার আর,
স্বাধীনতার বাস্তবতা এক নয়।
এখানে স্বাধীনতার মুক্তি সম্পর্কিত,
কিছু দায়িত্ব একত্রে সম্পাদিত।
যার নৈতিক মৌলিকতায়,
মানবিক মানবাধিকার।
অধীনস্থ নয় কিন্তু সার্বজনীনতা!
সুস্থ স্বচ্ছলতায় একা বেঁচে থাকা,
মুক্ত স্বাধীনতা নয়।
স্বাধীনতার স্বাধীনতাই,
সার্বভৌমত্বের স্বজাতীয় অস্তিত্ব।
প্রাচুর্যের শক্তি,
অন্যের বিঘ্ন না করুক।
দম্ভের চক্রান্ত,
অন্যকে বিভ্রান্ত না করুক।
স্বাধীনতার মুক্তির সংজ্ঞা,
এমনই যুক্তিযুক্ত।
সহভাগিতার সহমনা,
নিঃস্বার্থ আন্তরিক।
নীতি বিশ্বস্ত নম্র ত্যাগী,
নিষ্ঠায় বিচক্ষণ।
সত্যের সততাই সচেতন,
দারিদ্রতার অভিশাপ মুক্ত।
স্বাধীনতার মুক্ত অধিকার,
ন্যায্য প্রাপ্যের অঙ্গীকারে নিবেদিত।
ধর্ম জাতি গোত্র সমুদয়,
একই সারমর্মের অধীনে নিযুক্ত।
স্বাধীনতা,- মানবিক স্বাধীনতা!
স্বাধীনতা, - সার্বজনীন অধিকারের স্বাধীনতা!
স্বাধীনতা,- জাতি দেশ প্রেমের স্বাধীনতা!
স্বাধীনতা,- মত প্রকাশের মুক্ত বাক স্বাধীনতা!
স্বাধীনতা,- ভয়ে ভীতু তোষামোদ! মুক্ত স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা,- অনাচার নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীনতা!
ভালোবাসার দাসত্বতায়,
মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক।
সুগন্ধ ছড়িয়ে দিক,
আলো বাতাসে ঢালুক মধু।
হাতে হাত ঘারে ঘারে বেষ্টন বন্ধনে,
স্বাধীনতা হোক মুক্ত।
সকলে সকলে'তে,
সম্প্রীতির বন্ধন বাধুক।
একই ঐক্যে একই লক্ষে,
স্বাধীনতার অধিকার,
স্বাধীনতায় মুক্ত হোক।।
উৎসর্গীয় স্বাধীনতা।
লাল স্বাধীনতা
সরোয়ার সরকার
লাল স্বাধীনতা
বয়ে এনেছে বাংলার ঘরে ঘরে
প্রতিটা জনমনে বৈষম্যের বারতা ,
আজ লাল স্বাধীনতায় দগ্ধ মানুষ
যেন লুটে নিয়েছে তার মানবতা ।
লাল স্বাধীনতায়
যেন আজ রক্তে রাঙা জনপথ ,
সুশৃংখলতা ভুলে উশৃংখলতার দোলে
ঐ দেখো ছুটছে আজ ধ্বংসের রথ।
লাল স্বাধীনতা
এনে দিয়েছে নির্মম নিষ্ঠুরতা ,
খুন লুণ্ঠন রাহাজানি ধর্ষণের মতো
এনে দিয়েছে আজ অপরাধ যত ।
লাল স্বাধীনতা
যা ছিলো বৈষম্যহীন একতা ,
আজ নেই তার মাঝে কোথাও সাম্য
কভু এমন তো ছিলো না কারো কাম্য ।
লাল স্বাধীনতায়
নারী শিশু কেউ নেই নিরাপদ ,
প্রতি পায়ে যেথায় রয়েছে বিপদ
ছিলো যেথায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে শপথ ।
লাল স্বাধীনতায়
তাড়িয়ে স্বৈরাচার এনেছে অনাচার
ব্যভিচারে কোথাও নেই আজ সুবিচার ,
খুনিদের হাতে আজ খুন হয় মসজিদে
জানিনা ওদের কত রয়েছে রক্তের খিদে ।
স্বাধীনতা
মোঃ ফজলুল কবির মন্ডল( প্লাবন)
স্বাধীনতা তুমি দুঃখী মায়ের কান্নার প্রতিশোধ
স্বাধীনতা তুমি একাত্তরের বিরঙ্গনার তোপ
স্বাধীনতা তুমি হারানো অধিকারের গান
স্বাধীনতা তুমি পল্লী জননীর মুক্তির সোপান।
স্বাধীনতা তুমি কৃষকের সোনার ফসল
স্বাধীনতা তুমি শ্রমিকের অধিকার আন্দোলন
স্বাধীনতা তুমি কামাড় কুমারের প্রয়োজন
স্বাধীনতা তুমি বস্ত্র হারা মায়ের ক্রন্দন।
স্বাধীনতা তুমি দুঃখী মানুষের মুক্তি
স্বাধীনতা তুমি দামাল ছেলের শক্তি
স্বাধীনতা তুমি প্রভাত ফেরির গান
স্বাধীনতা তুমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্মান।
স্বাধীনতা তুমি মুজিবের বিপ্লবী ভাষন
স্বাধীনতা তুমি তিতুমীরের কারন
স্বাধীনতা তুমি বাংলা ভাষার আন্দোলন
স্বাধীনতা তুমি সবুজ শ্যামলার উদাহরণ।
স্বাধীনতা তুমি তাহেরের বিপ্লবী বাহিনী
স্বাধীনতা তুমি শহিদ জীয়ার কাহিনী
স্বাধীনতা তুমি ওসমানের হুঙ্কার
স্বাধীনতা তুমি বঙ্গবীরের উড়ানো ট্যাঙ্কার।
স্বাধীনতা তুমি ভাসানির উত্তরসূরি
স্বাধীনতা তুমি শেরে বাংলার উদ্ভাবনী
স্বাধীনতা তুমি শহিদ সরওয়ার্দীর ময়দান
স্বাধীনতা তুমি রফিক, বরকত, সালাম।
স্বাধীনতা তুমি ছোট্ট বালকের গোয়েন্দাগিরি
স্বাধীনতা তুমি ইতিহাসের মূল পটভূমি
স্বাধীনতা তুমি কামলা কৃষকের অবদান
স্বাধীনতা তুমি সকল পেশার সন্মান।
স্বাধীনতা তুমি শিল্পীর আকা ছবি
স্বাধীনতা তুমি হাজারো কবিতার কবি
স্বাধীনতা তুমি সুরকারের সুর
স্বাধীনতা তুমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর।