এতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস রয়েছে, যা এতেকাফের গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হাদিস তুলে ধরা হলো:
১. এতেকাফ ১০০০ বছরের ইবাদতের সমান
হজরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন এতেকাফ করে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দকের দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন, যেখানে প্রত্যেক খন্দকের দূরত্ব হলো আকাশ ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বের চেয়েও বেশি।"
(মুসনাদ আহমাদ: ৭৪৪৫)
২. এতেকাফ লাইলাতুল কদর পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করে
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
"নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন যতদিন না তিনি ইন্তেকাল করেন। এরপর তার স্ত্রীগণও এতেকাফ অব্যাহত রাখেন।"
(সহিহ বুখারি: ২০২৬, সহিহ মুসলিম: ১১৭২)
৩. এতেকাফ পাপ থেকে বিরত রাখে
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি এতেকাফ করে, সে যেন সব পাপ থেকে বিরত থাকে এবং সে এমন নেক আমল করে, যা অন্যান্য আমলকারীরা করতে পারে না।"
(ইবনে মাজাহ: ১৭৮১)
৪. এতেকাফ জান্নাতে প্রবেশের কারণ
আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি ইখলাসের সঙ্গে এতেকাফ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"
(তিরমিজি: ৮০৯)
সংক্ষেপে এতেকাফের ফজিলত:
- এতেকাফ করলে পাপ ক্ষমা হয় এবং নেক আমল বৃদ্ধি পায়।
- এটি মানুষকে লাইলাতুল কদর পাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
- জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা দেয় এবং জান্নাতের পথ সহজ করে।
- এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।