আযানের সময় সহবাস করলে কি হয়।আযানের সময় সহবাস করা যাবে কি।আযানের সময় কি কি করা নিষেধ

আযানের সময় সহবাস করা ইসলামিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। যদিও এটি সরাসরি হারাম নয়, তবে ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী এটি এড়ানো উচিত।


🔹 ইসলামিক দৃষ্টিকোণ

1️⃣ আযান হচ্ছে নামাজের ডাক— এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য আহ্বান। এ সময় মুসলমানদের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

2️⃣ সহবাস একটি বিশেষ মুহূর্ত— যেহেতু এটি গোপনীয় ও ব্যক্তিগত একটি কাজ, তাই আযানের মতো পবিত্র সময়ে এটি করা আদবের মধ্যে পড়ে না।

3️⃣ আযানের সময় সব ধরনের দুনিয়াবি কাজ থামিয়ে দেওয়া সুন্নত—

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে, তখন যা বলে সে বলবে।" (মুসলিম: ৩৮৪)

আযানের উত্তর দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।

🔹 করণীয়

✅ আযানের সময় থেমে যাওয়া এবং আযানের জবাব দেওয়া উত্তম।

✅ আযানের পর সহবাস করতে চাইলে করতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই।

✅ আযানের সময় ইবাদত, দোয়া ও নামাজের প্রস্তুতির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আযান ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের আহ্বান। তাই আযানের সময় কিছু আদব ও শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত। ইসলামে সরাসরি কিছু কাজ নিষেধ করা হয়েছে এবং কিছু কাজ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আযানের সময় কি কি করা নিষেধ

🔹 আযানের সময় যেসব কাজ করা নিষেধ বা এড়িয়ে চলা উচিত:
✅ ১. আযানের জবাব না দেওয়া
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে, তখন যা বলে সে বলবে।"
(মুসলিম: ৩৮৪)
তাই আযানের সময় কথা বলা বন্ধ করে, মনোযোগ দিয়ে আযানের জবাব দেওয়া সুন্নত।
✅ ২. কথা বলা, অযথা গল্প করা
  • আযানের সময় অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত।
  • এটি ইসলামের শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে।
✅ ৩. খাবার খাওয়া বা পান করা
  • আযান চলাকালীন খাবার খাওয়া বা পান করা ঠিক নয়।
  • তবে সাহরি খাওয়ার সময় যদি ফজরের আযান শুরু হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত শেষ করা যায়।
✅ ৪. টয়লেটে থাকা বা অপবিত্র স্থানে থাকা
  • আযানের জবাব দেওয়া সুন্নত, কিন্তু অপবিত্র স্থানে (যেমন টয়লেটে) থাকলে উত্তর না দেওয়াই উত্তম।
  • তবে টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর জবাব দেওয়া যেতে পারে।
✅ ৫. গান শোনা বা বাজানো
  • আযানের সময় গান শোনা, বাজনা বাজানো বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক কাজ করা আদবের পরিপন্থী।
  • এ সময় নীরবতা পালন করে আযানের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
✅ ৬. সহবাস করা
  • আযানের সময় দুনিয়াবি ও ব্যক্তিগত কাজ বন্ধ করে ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।
  • যদিও সহবাস হারাম নয়, তবে আযানের সময় এটি করা আদববিরুদ্ধ।
✅ ৭. নামাজ শুরু করা (জামাতে না পড়ার ইচ্ছা থাকলে)
  • আযান শেষ হওয়ার আগে ব্যক্তিগত নামাজ শুরু না করাই ভালো।
  • আযান শেষে আযানের দোয়া পড়ে সুন্নত নামাজ পড়া উত্তম।
🔹 আযানের পরে করণীয়:
✅ আযানের জবাব দেওয়া
✅ আযানের দোয়া পড়া:
"اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ"
(বুখারি: ৬১৪)
✅ দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়া (ফজরের সময় হলে)।
🔹 উপসংহা
আযানের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তাই এটি শোনা, জবাব দেওয়া এবং দোয়া পড়া গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, খাবার খাওয়া, গান শোনা, সহবাস করা বা অন্য কোনো দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত থাকা উচিত নয়। ইসলামের শিষ্টাচার মেনে চলাই উত্তম। 🤲

Post a Comment