স্বাধীনতা দিবস রচনা ।স্বাধীনতা দিবস রচনা ক্লাস 5,6,7,89,10। স্বাধীনতা দিবস রচনা ২০ পয়েন্ট

স্বাধীনতা দিবস

ভূমিকা

স্বাধীনতা প্রতিটি জাতির জন্য সর্বোচ্চ গৌরবের বিষয়। এটি শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, বরং হাজারো বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল।


বাংলাদেশের জন্য ২৬শে মার্চ একটি বিশেষ দিন। এটি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা দিবস, যে দিনটি আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করি। এ দিনটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা ঘটিয়েছিল এবং ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আমরা বিজয় অর্জন করি।

স্বাধীনতার ইতিহাস

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস সুদীর্ঘ ও সংগ্রামমুখর। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি দেশ সৃষ্টি হয়। পূর্ব বাংলা তৎকালীন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও, শাসন, শোষণ ও বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ধীরে ধীরে নিজেদের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতীয়তাবাদ আরও সুদৃঢ় হয়।

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালিদের ওপর বর্বর গণহত্যা চালায়, যা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত। এ পরিস্থিতিতে ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।

মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যেখানে ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান এবং ২ লক্ষেরও বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হন। মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের সহযোগিতা করে এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এই দিনটি আমাদের বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবস ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। এই দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্বাধীনতার গুরুত্ব

স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক এবং গর্বের বিষয়। স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে পেরেছি। তবে, স্বাধীনতা শুধুমাত্র অর্জনের বিষয় নয়, এর সঠিক ব্যবহারের দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। দুর্নীতি, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করাই স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা রক্ষা করার উপায়।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। অর্থনীতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমরা উন্নতি করেছি। তবে, এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক সংকট আমাদের জন্য প্রধান প্রতিবন্ধকতা। স্বাধীনতার সুফল পুরোপুরি পেতে হলে আমাদের সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতি নজর দিতে হবে।

উপসংহার

স্বাধীনতা দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়, এটি আমাদের জন্য এক প্রতিজ্ঞার দিন। এ দিন আমাদের শেখায় দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব। আমাদের উচিত স্বাধীনতার চেতনা অটুট রেখে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করি, তবে আমাদের স্বাধীনতা আরও অর্থবহ হবে এবং বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে স্থান করে নেবে।

Post a Comment