অধ্যবসায় রচনা এইচএসসি।অধ্যবসায় রচনা এসএসসি

অধ্যবসায় রচনা এইচএসসি

রচনা:০১

অধ্যবসায়

ভূমিকা:
অধ্যবসায় মানে হলো ধৈর্য ধরে নিয়মিত পরিশ্রম করা এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছানো। এটি মানুষের চরিত্রের একটি মহৎ গুণ, যা তাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। অধ্যবসায় ছাড়া জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়।

অধ্যবসায়ের গুরুত্ব:
জীবনে সফল হতে হলে অধ্যবসায় অপরিহার্য। প্রতিভা থাকলেও অধ্যবসায় না থাকলে মানুষ তার গুণের সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে, অধ্যবসায়ই প্রতিভাকে পূর্ণতা দেয়। একজন কৃষক যদি নিয়মিত যত্ন সহকারে চাষাবাদ না করেন, তবে তিনি ভালো ফসল পাবেন না। তেমনি, একজন ছাত্র যদি অধ্যবসায়ী না হয়, তবে সে কখনো ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে না।

অধ্যবসায়ের উদাহরণ:
বিশ্বের ইতিহাসে অনেক মহামানব অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন। বিজ্ঞানী থমাস এডিসন হাজারো ব্যর্থতার পর বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেছিলেন। আব্রাহাম লিংকন বহুবার ব্যর্থ হয়েও শেষ পর্যন্ত আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটবেলা থেকে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

অধ্যবসায়ের অভাবের পরিণাম:
যারা অধ্যবসায়ী নয়, তারা জীবনে কখনো প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারে না। তারা সাময়িক আনন্দে মগ্ন থাকে, কিন্তু জীবনের বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। অলসতা, হতাশা অল্প পরিশ্রমে বিরক্ত হয়ে যাওয়াএসবই অধ্যবসায়ের অভাবের লক্ষণ।

উপসংহার:
অধ্যবসায় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এটি মানুষকে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত অধ্যবসায়ের গুণ অর্জন করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্য নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করা।

রচনা:০২

অধ্যবসায়

ভূমিকা:

জীবনে সফলতার চাবিকাঠি হলো অধ্যবসায়। এটি এমন একটি গুণ যা মানুষকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। অধ্যবসায় ছাড়া কেউ বড় কোনো অর্জন করতে পারে না। পৃথিবীর ইতিহাসে যাঁরা সফল হয়েছেন, তাঁরা সবাই কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। মানুষের স্বপ্ন পূরণ, জীবনকে অর্থবহ করে তোলা এবং জাতির উন্নয়নের জন্য অধ্যবসায় অপরিহার্য।

অধ্যবসায়ের সংজ্ঞা:

অধ্যবসায় বলতে বোঝায় নিরলস প্রচেষ্টা, ধৈর্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কোনো লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা। একবার ব্যর্থ হলে হাল না ছেড়ে বারবার চেষ্টা করাই অধ্যবসায়ের প্রকৃত রূপ। যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে সফল হওয়ার মানসিকতাই হলো অধ্যবসায়।

অধ্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য:

. অবিরাম চেষ্টা: অধ্যবসায় মানে হলো একবার ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করা।
2.
ধৈর্য মনোবল: কঠিন সময়েও ধৈর্য ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
3.
সাহস আত্মবিশ্বাস: নিজের দক্ষতার প্রতি বিশ্বাস রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া।
4.
পরিশ্রম আত্মনিয়ন্ত্রণ: জীবনে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখা।
5.
শৃঙ্খলা সময়ানুবর্তিতা: অধ্যবসায়ী ব্যক্তি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করেন এবং সময়ের মূল্য দেন।

অধ্যবসায়ের গুরুত্ব:

অধ্যবসায় ছাড়া জীবনে বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। এটি মানুষের উন্নতি, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

. শিক্ষাজীবনে অধ্যবসায়:

শিক্ষাজীবনে অধ্যবসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থী যদি নিয়মিত পড়াশোনা না করে, তবে সে ভালো ফলাফল করতে পারবে না। শুধু মেধা থাকলেই হবে না, কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

. কর্মজীবনে অধ্যবসায়:

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য অধ্যবসায় অপরিহার্য। কর্মজীবনে যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী, সে ধাপে ধাপে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। বড় বড় বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী নেতারা অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই সফল হয়েছেন।

. ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়:

ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ী ব্যক্তি কখনো হতাশ হন না। তারা যে কোনো কাজে ধৈর্য মনোবল ধরে রাখেন এবং লক্ষ্য অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। অধ্যবসায়ী ব্যক্তিরা কর্মঠ আত্মনির্ভরশীল হন।

. জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়:

একটি জাতির উন্নয়নের জন্য অধ্যবসায় অপরিহার্য। যে জাতির মানুষ অধ্যবসায়ী, সে জাতি বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অধ্যবসায় প্রতিভার তুলনা:

অনেকে মনে করেন, প্রতিভাই জীবনের সাফল্যের মূল উপাদান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিভার থেকেও অধ্যবসায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি যদি পরিশ্রম না করেন, তবে তার প্রতিভা অকেজো হয়ে পড়বে। কিন্তু একজন অধ্যবসায়ী ব্যক্তি ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করলে সে নিশ্চিতভাবেই সফল হবে।

অধ্যবসায়ের কয়েকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত:

. এডিসন: হাজারো ব্যর্থতা সত্ত্বেও বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারে সফল হয়েছিলেন।
. আব্রাহাম লিংকন: বারবার ব্যর্থ হলেও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।
3.
রবার্ট ব্রুস: একাধিক যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পরও হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছিলেন।
. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট: তিনি বলেছিলেন— "অসম্ভব শব্দটি শুধু দুর্বলদের অভিধানে আছে।"

অধ্যবসায়হীনতার কুফল:

যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী নয়, সে জীবনে বড় কোনো অর্জন করতে পারে না। অধ্যবসায়হীন ব্যক্তি সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে, ব্যর্থতার ভয়ে নতুন উদ্যোগ নিতে ভয় পায় এবং জীবনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

উপসংহার:

অধ্যবসায় ছাড়া জীবনে কোনো বড় অর্জন সম্ভব নয়। এটি মানুষকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উন্নতির চূড়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী, তার জীবন সফল সার্থক হয়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত অধ্যবসায়ী হয়ে নিজের লক্ষ্য অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

Post a Comment