সরস্বতী পূজা কবিতা।সরস্বতী পূজা নিয়ে কবিতা

সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি বিদ্যা, সঙ্গীত এবং কলার দেবী মা সরস্বতীর আরাধনা হিসেবে পালিত হয়। 

এই দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি তাদের পাঠশালায় প্রবেশ এবং শুদ্ধ জ্ঞানের সূচনা হয়। মা সরস্বতীকে সাধারণত শ্বেত বস্ত্রে, বীণা হাতে বসে থাকতে দেখা যায়, যা শিক্ষা এবং সঙ্গীতের প্রতীক। পূজার সময় দোয়াত, কলম, বই ও বাদ্যযন্ত্রসহ বিশেষ উপকরণের মাধ্যমে মা সরস্বতীকে আরাধনা করা হয়। শিশুদের হাতে খড়ি দেওয়া, বই ও কলমের পূজা এবং পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন হয়। এই দিনটি কেবল শিক্ষার উৎসব নয়, বরং সৃজনশীলতা, শিল্প এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি মুহূর্তও।আজকে আমরা সরস্বতী পূজা নিয়ে সেরা কবিতাগুলো পড়বো।

সরস্বতী বন্দনা
- লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী - 

মাঘ মাস, শুক্ল পক্ষে, বসন্ত পঞ্চমী ,
বিদ্যাদেবী বীণাপানি, তোমারে প্রণমি।
হংসযুক্ত রথ পরে, চড়িয়া বিমানে,
আবির্ভূতা হন দেবী, এই ধরাধামে।
আমার কণ্ঠেতে মাগো দেহ তব সুর,
যে সুরে জিনেছ মাগো, ঊর্দ্ধ সুরপুর।
আমার মস্তকে দেহ চরণ কমল,
লিখিতে পারি মা যেন কবিতা সকল।
কবি আমি, গেয়ে যাই দেবীর বন্দনা,
শ্বেত বীণা ধরা দেবী, শ্বেত আভরণা।
অপার মহিমা তব বিদিত ভুবন,
বাল্মিকী রচিয়াছেন কাব্য রামায়ণ।
বিশ্ব চরাচর সবে করিছে আহ্বান।
তুমি বিদ্যাদায়িনী মা, বিদ্যা কর দান।

সরস্বতী পুজো ও প্রথম প্রেমের কবিতা 
সৌমেন ঘোষ 

সকাল থেকে মেঘ করেছে 
দু ' একপশলা বৃষ্টি হলো 
আমার তখন ঊনিশ কুড়ি 
তোমার হবে পনেরো ষোলো 
ঠাকুর দালান ফুল সাজানো 
চোখে চোখে প্রেমের দোলা 
ক্লাবের ঘরে আমরা কজন 
সামনে তুমি, জানলা খোলা 
হলুদ রঙা শাড়ি তোমার
প্রথম দেখি পঞ্চমীতে 
পাড়ার পুজোর উদ্বোধনে 
তুমিই সেদিন কাটলে ফিতে 
তারপরে, আলাপ হলো 
নদীর পাড়ে , শ্যাওলা সাঁকো 
এখন তুমি অনেক দূরে 
দুষ্টু মেয়ে আমায় ডাকো ?
পুজো কেটে ডুব সিনেমা 
চেনা লোকে দেখার ভীতি 
হারিয়ে গেছে শ্রী পঞ্চমী 
হারিয়ে গেছে সরস্বতী 

এসো  মা  সরস্বতী
        – গৌতম  মণ্ডল

 শীতের আঁচল সরিয়ে মাগো –
  এসো মা আজ সবার  ঘরে ৷
বিদ্যালয়ে  জ্ঞানের  প্রদীপ
   জ্বলুক  আবার  নতুন করে ৷
তোমার আসার পথটি চেয়ে
  হাজার   ছাত্র  ছাত্রী ৷
ভরিয়ে দাও  মা  শিক্ষাঙ্গন
   তুমি যে  বিদ্যাদাত্রী ৷
তোমার হাতের তারের বীণায়
   জেগে  উঠুক  নতুন  সুর ৷
সেই  সুরেরই  রশ্মি – ছটায়
   ভাসুক  আলোর  সমুদ্দুর ৷
মঙ্গল ঘট  পাতছি  মাগো
    দাও জ্বেলে  দাও জ্ঞানের বাতি ৷
আর  কতোদিন  থাকবো দুখে ?
    কাটবে কবে  আঁধার রাতি?
আঁধার  কেটে  উঠুক  রবি
  আসুক  প্রভাত  নতুন  ভোর ৷
সেই  প্রভাতের  প্রত্যাশাতেই
   খুলুক  এবার  বিদ্যা-  দোর ৷

অন্য সরস্বতী

সকালে উঠে সবাই যখন,
মাতবে তোমায় নিয়ে “মা”
কানে তখন বাজবে আমার,
যা নিয়ে আয় এক কাপ চা।
দেখব আমি,
পাড়ার ছেলেরা করছে পূজার আয়োজন
মনে যদিও তুমি মা’গো,
পেট মানে না কোনও পার্বন।
ঘর মুছে, বাসন ধুয়ে কাটে
সকাল, বিকালবেলা
সন্ধ্যা হলে সেজেগুজে
শরীর বিক্রির খেলা।
ছাই সরিয়ে ,কয়লা কুড়িয়ে
কাটছে কতো ভোর
নারী হয়েও জীবনভর,
সম্মান কতো তোর।
আমার নামও সরস্বতী,
বাপের দেওয়া নাম
কাগুজে শিক্ষা দিতে পারে নি বাপে,
তাই এই কি পরিনাম?
তোমার মা’গো অনেক পুজো,
অলিতে ,গলিতে, পাড়ায়, ক্লাবে
আমার হতাশা ,আমার বেদনা
শুনতে তুমি কী পাবে?
এতো আয়োজন,এতো পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন
বিদ্যা পাওয়ার তরে,
ঘরে ঘরে আমার মতো সরস্বতীরা,
আজও অশিক্ষার অন্ধকারে।
বাঁচার মতো বিদ্যা দিও “মা”
করো না অহংকারী
গায়ে গতরে খেটেও “মা” গো
জীবন চালাতে পারি।
আমার মতো সরস্বতীরা ,
পাবে কী তোমার আশীর্বাদ?
বই ,খাতা যারা পাইনি ছুঁয়ে দেখতে,
পেয়েছে শুধু কঠোর বাস্তবের স্বাদ।

-কাবু মন্ডল

Post a Comment